1. dailybulletin11@gmail.com : Daily Bangla Bulletin : Daily Bangla Bulletin
  2. emrojhabib@gmail.com : Habibur Rahman : Habibur Rahman
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:২২ অপরাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ:
রিলিজ হলো শুভ্র আজাদের নতুন মিউজিক ভিডিও ময়না ডাইম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নির্দিষ্ট তারিখ চাইবে বাংলাদেশ ৪০ বছর পর চীনে পাকিস্তানের প্রথম সিনেমা–‘পরওয়াজ হ্যায় জুনুন’ ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পকে পঙ্গু করে দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত রাজনীতি কৃষকলীগ করতে হলে কৃষকের দরদ বুঝতে হবে, কৃষিকে ভালোবাসতে হবে: স্মৃতি এমপি বগুড়া সান্তাহার পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু বগুড়ায় কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা বগুড়া গাবতলীতে শিশুকে অপরহরণকালে চারজনকে পাকড়াও করেছে জনতা বগুড়া গাবতলীতে ৬৩টি পূজা মন্ডপে শাড়ী-ধুতি বিতরণ করলেন রবিন খান

২১ অগাস্ট হামলার খবরে ‘হতবাক ও বিচলিত’ হয়ে পড়েছিলেন খালেদা: ফখরুল

বাংলা বুলেটিন ডেস্ক
  • Update Time : Saturday, 22 August, 2020

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, যদিও সে সময় ‘জজ মিয়া’ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে নাটক সাজানোর বিষয়টি পরে প্রমাণিত হয়েছে।

ইতিহাসের জঘন্য ওই হামলার ১৬ বছর পূর্তিতে শুক্রবার এক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময়কার ঘটনাবলী স্মরণ করে হামলার জন্য তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করেন।

হামলার পরে এ বিষয়ে সংসদে কথা বলতে বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “একটা দেশে এই রকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আমি বিরোধী দলের নেতা, আমার ওপর এমন একটা গ্রেনেড হামলা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মত একটি দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই দলের একটা সভায় এমন একটা গ্রেনেড হামলা, আর পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, লিডার অফ দ্য হাউস, প্রধানমন্ত্রী, সে দাঁড়িয়ে বলে দিলো ‘উনাকে আবার কে মারবে’।

“এখন তো বলতে হয় যে আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন, সেই জন্য আর পারছেন না। সেই দিন এই রকম তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে আমাদেরকে কোনো কথা বলতে দেয় নাই এই হামলা সম্পর্কে। অথচ আমাদের নেতাকর্মীরা, পার্লামেন্ট মেম্বাররা (তখন) আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে শনিরবার এক বিবৃতিতে দলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গতকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে সরকারি ভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আমাকে মারার চেষ্টা করেছে। এছাড়াও তিনি বেগম জিয়াকে নিয়ে আরও মনগড়া ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, যা অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

“বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অপরিণামদর্শী, দায়িত্বহীন, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্যের আমি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণে দলের তখনকার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত, আহত হয়েছিলেন কয়েকশ মানুষ। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, “ওই দিনের ঘটনা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ এবং এতে হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রিসভা নিন্দা জানান, নিহত ও আহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান এবং দোষীদের বিচারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

“ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্ভিস দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই সদস্যদের আনা হয়। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।”

এই বিএনপি নেতা বলেন, “২১ অগাস্টের হামলার ঘটনা শোনার সাথে সাথেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হতবাক ও বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত হতাহতদের খবর নিতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকীকে দেখতে সিএমএইচে যান।

“প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানাতে চেষ্টা করেন, এজন্য নিরাপত্তা বাহিনী দিনভর চেষ্টা চালায়। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সুধা সদনের আশপাশের রাস্তা দিনরাত দখল করে রাখে। এক পর্যায়ে অগ্রগামী টিম হিসেবে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করে সেখান থেকে বের করে দেয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা। পরে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার কাছে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ স্বাক্ষরে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে পত্র পাঠান। সেই চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে পত্রবাহক নিজেও হামলার শিকার হন।”

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এই হামলার মামলা তদন্ত শেষে দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “সেই অভিযোগপত্রে বোমা হামলার সাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের জড়িত থাকার কোনো উল্লেখ নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম কেউ কখনোই উচ্চারণ করেনি।

“২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশি পুনঃতদন্তের মাধ্যমে রচিত সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নাম জড়িত করা হয়। এতে সুষ্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করে পুলিশি ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কল্পিত চার্জশিট তৈরি করে। যে পুলিশ কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি বর্তমান সরকারের অত্যন্ত আপনজন হিসেবে পরিচিত। উদ্দেশ্যে ২১ অগাস্ট বোমা হামলার মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা।”

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলার মামলার রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ওই তদন্ত ও রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, “আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে হাতের মুঠোয় নিয়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জড়াতে সম্পূরক চার্জশিট তৈরি করার মাধ্যমে প্রহসনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজা দিয়ে এখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টার্গেট করা হয়েছে। ২১ অগাস্ট নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা।

“এই মামলায় কোনোভাবেই বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কেউ কখনোই টু শব্দটি করেনি।”

তিনি বলেন, “২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে মুফতি আব্দুল হান্নান। আবেদনে এই জঙ্গি নেতা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় এ ধরনের কোনো জবানবন্দি আদালতে দেননি। ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি তারেক জিয়া, হারিছ চৌধুরী ও লুৎফুজ্জামান বাবরের সাথে কোথাও কোনো সময়েই দেখা করিনি, পিন্টুর বাসাতেও কখনও যাইনি ও চিনি না এবং অন্যান্য আসামিদেরকেও আমি চিনি না। এছাড়াও তার ওপর অকথ্য নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে তার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনে।

“মুফতি হান্নানকে দিয়ে যদি বিএনপি সরকার গ্রেনেড হামলা করায় তাহলে সেই সরকারই ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর কেন তাকে গ্রেপ্তার করে? ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা ও মামলায় সংক্ষিপ্ত কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। সমগ্র মামলাটি বিশ্লেষণ করলে এটিই সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপিকে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই ২১ অগাস্ট সংক্রান্ত মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য এখনও চলমান রয়েছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ