1. dailybulletin11@gmail.com : Daily Bangla Bulletin : Daily Bangla Bulletin
  2. emrojhabib@gmail.com : Habibur Rahman : Habibur Rahman
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ:
রিলিজ হলো শুভ্র আজাদের নতুন মিউজিক ভিডিও ময়না ডাইম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নির্দিষ্ট তারিখ চাইবে বাংলাদেশ ৪০ বছর পর চীনে পাকিস্তানের প্রথম সিনেমা–‘পরওয়াজ হ্যায় জুনুন’ ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পকে পঙ্গু করে দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত রাজনীতি কৃষকলীগ করতে হলে কৃষকের দরদ বুঝতে হবে, কৃষিকে ভালোবাসতে হবে: স্মৃতি এমপি বগুড়া সান্তাহার পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু বগুড়ায় কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা বগুড়া গাবতলীতে শিশুকে অপরহরণকালে চারজনকে পাকড়াও করেছে জনতা বগুড়া গাবতলীতে ৬৩টি পূজা মন্ডপে শাড়ী-ধুতি বিতরণ করলেন রবিন খান

আমার সেই ঈদ; দুঃখ ও ঋণ

লেখক: আব্দুর রাজজাক বকুল
  • Update Time : Monday, 17 August, 2020

চার ভাই, এক বোন, বাবা ও মা। বড় সংসার আমাদের। সবার ছোট আমি। বড় দু’ভাই দেশের বাড়িতে থাকেন। তাঁরা বিবাহিত। আপা শ্বশুর বাড়ি। সেজ ভাই চাকরির কারণে অন্য জেলায়। আমি পড়াশোনার কারণে শহরে। মেসে থাকি। আমাদের গোটা সংসারের সকল চাহিদা, সকল দায়ভার গিয়ে পড়তো মা’র ওপর। মা দক্ষ হাতে সব সামলিয়ে নিতেন। বাবা প্রাইমারী স্কুলের হেড টিচার। তিনি গম্ভীর ও রাশভারী মানুষ। ছাত্র পেটাতেন, ডাক্তারী করতেন। বাবার সাথে আমার সকল ভাই বোনেরই দূরত্ব ছিলো। বড় কোন প্রয়োজনেও বাবার কাছে চাইতাম না কিছু। মা সময় মতো সবার সবকিছু প্রয়োজন মেটাতেন।

এক রাতে মা হঠাৎ সৃষ্টিকর্তার এক নোটিশে স্ট্রোক করে মারা যান। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্ট পাই সেদিন। এখন কে দেখবে আমায়! কে দেবে আমার পড়শোনার খরচ! আর কোথায় পাবো মায়াময়ী ছায়া! আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে মা বলে ডাকি। সাঁড়া মেলে না। বাতাসের দিকে তাকিয়ে ডাকি, পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ডাকি, বৃক্ষরাজির দিকে তাকিয়ে ডাকি, সাগর , চন্দ্র, সূর্যের দিকে তাকিয়ে মা.. মা বলে ডাকি। কোন সাঁড়া মেলে না।

আমাদের একান্নবর্তী বড় পরিবার। মা মারা যাবার পর কেমন যেন ওলোট পালোট হয়ে যায় সব। বড় দুই ভাই নিজ নিজ পরিবার নিয়ে আলাদা ঘরে উঠে গেলেন। বাবা গেলেন বড় ভাইয়ের পরিবারে। আমি মেসে থাকি। আমার কি ব্যাবস্থা হয়েছে, জানি না। বাড়িতে গিয়ে কোন ঘরে উঠবো, কোন ভাই ডাকবে খাবারের জন্য , কিছুই জানি না। আমি বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। মেসে আমার পাড়ার কয়েকজন ছেলে থাকে। আমার চাচাতো দু’ভাই থাকে। তারা প্রতি সপ্তাহেই বাড়ি যায়। আমাকে যেতে বলে। আমি যাই না। তারা বাড়ি থেকে ফিরে এসে পাড়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করে, হাসাহাসি করে। আমি কেবল মুখ বুঁজে শুনি। এক ফাঁকে চাচাতো ভাইকে ডেকে বলি, আমাদের বাড়ির খবর কি রে? সে বলে, ভালো। আমি আগ্রহ নিয়ে বলি, আমার কথা কেউ জিজ্ঞেস করে? আমাকে কেউ যেতে বলেছে? সে নির্লিপ্ত ভাবে বলে,‘না’। শুনে আমার বুক ফেটে যায়। আমি দরজা বন্ধ করে কাঁদি। ওয়াশ রুম থেকে মুখ ধুয়ে হাসি মুখে বের হই। কাউকে কিছু বুঝতে দিই না।

ছোট ছেলে হওয়ায় আমার প্রতি মা’র টান ছিলো একটু বেশি। মা বেঁচে থাকতে আমি প্রতি সপ্তাহেই বাড়িতে যেতাম। মা’র পাশে বসে এক সঙ্গে ভাত খেতাম। মা আদর করে এটা সেটা তুলে দিতেন। আমি সারাদিন হৈ হৈ করে বেড়াতাম। বন্ধুদের সাথে ঘুরতাম, খেলতাম। শহর থেকে ভিসিআর ভাড়া করে এনে ‘গঙ্গা যমুনা স্বরশ্বতী’ দেখতাম। সেই আমি আর বাড়িতে যাই না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। আমাকে কেউ আর ডাকে না। আমার অভিমান কেবল বাড়ে। বাড়তে থাকে। তারপরও তাকিয়ে থাকি আমার প্রিয় বাড়ির দিকে। ভাই, ভাবী, বাবা কেউ একবার ডাকলে, কারো একটা ফোন পেলে একদম ছুটে যাবো আমি। কিন্তু আমার কোন ইচ্ছে পূরণ হয় না। আমাকে কেউ ডাকে না।

আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে একটা উচু জঙ্গলা ঢিবির ওপর আমার মা’র কবর। আমি প্রতি সপ্তাহেই মা’র কবরের পাশে যাই। মা’র কবর জিয়ারত করি, কাঁদি। মা’র কাছে আমার কষ্টকথা গুলো বলে আসি। তারপর সোজা আবার মেসে। বাড়িতে যাই না।

রমজান মাস শুরু হয়। রোজা করি। সেহেরী ইফতারী খাই, পড়াশোনা করি। চৌদ্দজন বোর্ডারের এক বড় মেস পরিবার আমাদের। সবাই মিলে মিশে থাকি। ঈদ সামনে আসতে থাকে। মেসের ছেলেরা মার্কেটে যায়। শপিং করে। আমাকে দেখায়। আমার মার্কেটে যাওয়া হয় না। আমার জন্য কেউ টাকা পাঠায় না। আমি কেবল সৃষ্টিকর্তার সাথে গল্প করি। তাঁর কাছে কাঁদি। তাঁর দয়া কামনা করি।

ঈদের বাকি তখনও সাত দিন। কলেজ ছুটি হয়। একে একে সবাই যে যার বাসায় যাওয়া শুরু করে। ঈদ যতই এগিয়ে আসে, মেসে বোর্ডারের সংখ্যা ততই কমতে থাকে। আমি বাড়ি থেকে জামা কাপড়ের টাকার আশা বাদ দিই। কেবল একটা ফোন কলের আশা করতে থাকি। অপেক্ষা করতে থাকি। শুধু একটা ফোন পেলেই ছুটে যাবো আমার প্রিয় জন্মভিটায়, প্রিয় গ্রামে, প্রিয় মানুষদের কাছে। সময় গড়াতে থাকে। আমার কোন ফোন আসে না। আমার কোন ডাক আসে না।

ঈদের মাত্র একদিন বাকি। রোজাও বাকি একটা। বুয়া ঘরে এসে আমার মুখোমুখি বসেন, বাবা আমার তো ছুটি দরকার। একদিন বাদে ঈদ। বাড়িতে মেয়ে, নাতি আসবে।
বলি, ঠিক আছে খালা, আজ থেকে আপনার ছুটি।
বুয়া আমার সব খবর জানেন। কেন বাড়ি যাচ্ছি না, এটাও জানেন। বুয়া আমার বেহাল অবস্থা দেখে মন খারাপ করে বলেন, ঠিক আছে বাবা। কাল সেহেরী আর ইফতারের সময় তোমার খাবার দিয়ে যাবোনি বাসা থেকে। আমি রাজি হই না। বলি, না খালা। অতোদূর থেকে শেষ রাতে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসার দরকার নেই। বুয়া নাছোড় বান্দা। তাঁর পিড়াপিড়িতে বলি, ঠিক আছে খালা ,শুধু সেহেরীর খাবারটাই দিয়ে যেও। ্ইফতারের সময় আমি কিছু একটা খাবোনি।

বুয়া সেহেরীর সময় খাবার নিয়ে আসে। বলে যায়, কাল ঈদ। সকালে আমার বাসায় যাবা। সারাদিন আমার বাসায় খাবা।
বলি, সম্ভব না খালা। শেষে বুয়া বলে যায়, আমি সন্ধ্যার দিকে তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসবোনি। সারাদিন অনেক খাঁটুনি যাবে। রান্না বান্না করতে হবে। আমি কিন্তু এর আগে আসতে পারবো না বাবা।

আমি সারাদিন শুয়ে থাকি। মেস জুড়ে আমি একা। কোন কিছু ভালো লাগে না। আমি একটা ফোনের অপেক্ষায় থাকি। ফোন আসে না। ইফতারের সময় হয়। আমি মুড়িটুড়ি দিয়ে ইফতার করি। একাকি। ইফতার করে খাবার হোটেলে যাই রাতের খাবারের জন্য। সমস্ত হোটেল বন্ধ। কর্মচারীরা সবাই ঈদের ছুটিতে। কোন দোকানে পাউরুটি নেই। এক সপ্তাহ্ আগে থেকে বেকারীর কারখানায় ঈদের ছুটি । উৎপাদন বন্ধ। কোন দোকানে একটা কলাও নেই। ভাবলাম, সৃষ্টিকর্তা ভুল করে আজ আমার জন্য রিজিক লেখেননি। মন খারাপ করে মেসে চলে আসি। সারাদিনের ক্লান্ত শরীর। পেটে ক্ষুধার দাউ দাউ আগুন। বাড়িওয়ালাকে বলে দিই, মেসের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চাবি আমাকে দিন। কেউ এলে বলবেন, মেসে কেউ নেই।

দু’গ্লাস ঠান্ডা জল খেয়ে বিছানায় যাই। ঘুমোনোর চেষ্টা করি। ঘুম ধরে না। ভীষণ রকম মন খারাপ। এ মন খারাপের ভাষা কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। রাত দশটায় বড় ভাইয়ের ফোন, বকুল তুই কই?
বলি, ভাই আমি তো মেসে।
‘মেসে কেন, ঈদ করতে বাড়িতে আসবি না?’
‘না।’
‘তুই ঈদ করতে না এলে পাড়ার লোক কি বলবে? মা মরার একবছর হয়নি। পাড়ার লোক বলবে আমরা বোধহয় তোকে দেখতে পারি না।’
‘পাড়ার লোক কিছু বলবে, এইজন্য চাঁদরাতে রাত দশটার সময় ফোন দিয়েছেন?’
ভাই চুপ করে থাকেন। আমি ফোন কেটে দিই।

সারারাত ঘুম হয় না আমার। পেটের ক্ষুধা আর মনের কষ্টে ছটফট করতে থাকি। ভাবি, কি সুখের জীবন ছিলো আমার! আমাদের! অথচ একটি মৃত্যু, সৃষ্টিকর্তার একটি ইশারা সবকিছু কেমন যেন তছনছ করে দিলো!
ভোর হয়। আমি ব্রাশ করে ক্লান্ত শরীর আবার বিছানায় এলিয়ে দিই। সময় গড়াতে থাকে। ৮টা, ৯টা, ১০টা, ১১টা। আমার শরীর ক্রমশ বিছানায় নেতিয়ে যেতে থাকে। উঠতে পারি না। বাইরে তালা। আমি ঈদের নামাজে যাই না। মনে মনে বলি, আমার জন্য ঈদ না।

তখন বোধহয় দুপুর। ক্ষুধাক্লান্ত শরীরটাতে ঘুম ঠেসে ধরেছে। দরজায় ক্রমাগত ঠকঠক শব্দ আর বকুল বকুল ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার অভিমান তীব্র হয়। আমি জবাব দিই না। ডাক ক্রমেই জোরালো হয়। আমি শরীরটাকে টেনে তুলে আস্তে আস্তে মূল গেটের কাছে আসি। কার গলার আওয়াজ বোঝার চেষ্টা করি। আমার স্কুল ফ্রেন্ড পাপ্পু ডাকাডাকি করছে। অনেকক্ষণ ডাকার পর জবাব দিই। দরজার ওপারে চাবি দিই। পাপ্পু তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। ওর হাতে টিফিন ক্যারিয়ার। আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়, কি রে! বাড়ি যাসনি কেন? দাঁড়ি কাটিসনি কেন?
আমি এ কথার উত্তর দিই না। প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলি, আমি এখানে আছি তুই কিভাবে জানলি?
পাপ্পু উত্তর দেয়, গতকাল শহরে তোর চাচাতো ভাইয়ের সাথে দেখা। বললো তুই বাড়িতে যাসনি। নে নে আয়। তোর জন্য খাবার নিয়ে এসেছি। তাড়াতাড়ি খেয়ে বাটিগুলো দে। আমাকে আবার অন্য কাজে যেতে হবে। আমি পাপ্পুকে জড়িয়ে ধরে আড়ালে চোখের জল মুছি। ওকে বুঝতে দিই না।

দীর্ঘ ৩১ ঘন্টার না খাওয়া ক্ষুধার্ত শরীর আমার। গোগ্রাসে পেটের ভেতর দ্রুত চালান করে দিই খাবার গুলো। যাবার সময় পাপ্পু বলে, রাতে আবার তোর জন্য খাবার নিয়ে আসবো। পাপ্পুকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলি, সন্ধ্যায় বুয়া খাবার দিয়ে যাবে।

খাবার শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দিই। নিমিষেই গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই। আবারও দরজার ওপাশ থেকে ঠকঠক শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। বুয়া ডাকছেন একনাগাড়ে। দরজা খুলে দিতেই ঘামঝরা শরীর নিয়ে ঘরে ঢোকেন বুয়া। খাবারের বাটি টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে বলেন, কিছু মনে করো না বাবা। সারাদিন রান্না বান্না, অনেক কাজ। এখনও গোসল করিনি। জানি সকাল থেকে কিছু খাওনি। অনেক ক্ষুধা লেগেছে তোমার। খাবার গুলো রেখে গেলাম। খেয়ে নাও। আমি যাই। বাইরে রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। কাল সকালে আবার খাবার নিয়ে আসবো।
বুয়াকে বললাম, খালি পেটে নেই খালা। পাপ্পু খাবার নিয়ে এসেছিলো দুপুরে।

এটা প্রায় ১৫ বছর আগের গল্প। পাপ্পুর সাথে এখনও আমার দেখা হয় মাঝে মাঝে। কথাও হয় ফোনে। বিয়ে করার পর একটু বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলো পাপ্পু। বাসায় বউ, বাচ্চা। পাপ্পু বেকার, কোন জব ছিলো না। ওকে একটা জবের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম আমি। চার বছরের মতো করেছে জবটা। এখন জব ছেড়ে দিয়ে অন্য কিছু করছে। মোটামুটি ভালো আছে পাপ্পু।
বুয়ার সাথে দেখা নেই দীর্ঘ এক যুগ। চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকেছি। পরে চাকরি ছেড়ে এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়েছি। এখন ব্যবসা চালাতে গিয়ে বাড়তি সময় হয় না। বিভিন্ন ব্যস্ততায় ভুলেও থেকেছি বুয়াকে। আমি আসলে জানতামও না বুয়া আদৌ বেঁচে আছেন, না কি মারা গেছেন।

কয়েক দিন আগে সেজো ভাই এসে বললেন, তাঁর সাথে নাকি বুয়ার দেখা হয়েছে। বুয়া নাকি আমার অনেক খবর নিয়েছেন। আমি কেমন আছি, ব্যবসা কেমন চলছে, বউ, বাচ্চা সব কিছুরই খবর নিয়েছেন। তবে বুয়া এখন কোথায় থাকেন সেজো ভাই ঠিকঠাক বলতে পারলেন না। শুধু বললেন আমাদের মহল্লার কোথাও একটা জায়গায় হয়তো থাকেন। ভাবছি, দু’একদিনের মধ্যেই বুয়ার খোঁজে বের হবো। বুয়ার বাসায় গিয়ে তাঁকে একটা শাড়ি দিয়ে আসবো। এক টানা সাত বছর আমাদের রান্না করে খাইয়েছেন নিরীহ, গরীব এ মানুষটি। তাঁর কাছে আমার সীমাহীন ঋণ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ